মার্চ ৫, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
সীমান্ত প্রদেশগুলোতে বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে শত শত আফগান নাগরিক। বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজ এবং খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা সীমান্তে লড়াইরত আফগান সেনাদের গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে তাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
গারদেজে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অনেককে বর্তমান তালেবান সরকারের সাদা পতাকা নাড়াতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে নিরপরাধ নারী ও শিশুদের হত্যা করছে যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের দেওয়া তথ্যমতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চলা সপ্তাহব্যাপী সীমান্ত সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১০৪ জন আফগান নাগরিক।
তবে পাকিস্তান তাদের এই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেছে যে তাদের সেনারা সংঘর্ষে চারশোর বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত দেড়শো সেনা নিহত হয়েছে। যদিও এসব হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তাদের পক্ষে ২৫ জনের বেশি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
সীমান্তের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৬৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম। সংঘর্ষের ফলে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের জন্য পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে এই পরিস্থিতিতে জরুরি খাদ্য সহায়তা স্থগিত হওয়ার ফলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
নানগারহার প্রদেশের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিয়মিত সহায়তা পাওয়া গেলেও এখন তা বন্ধ হওয়ায় তারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। সংঘর্ষের কারণে মানবিক করিডোরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খাদ্য সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন তাদের এই প্রতিবাদ কেবল দেখানোর জন্য নয় বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার জন্য। তাদের দাবি কুনার প্রদেশে নারী ও শিশুসহ যে ১৭ জন নিহত হয়েছেন তাদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ইসলামাবাদ জানিয়েছে তারা মূলত জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তত বেশি বিপর্যয় নেমে আসছে। বিশেষ করে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত সীমান্ত সেনারা যে প্রতিকূল অবস্থায় দেশ রক্ষা করছেন তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন