মার্চ ৫, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নয় ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হলো নিজেদের অভীষ্ট অর্জন করা এবং ওয়াশিংটনকে একটি যুতসই ও কঠোর জবাব দেওয়া। বুধবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর খতম আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে চরম শিক্ষা দেওয়া না যাবে, ততদিন ইরানের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।জেনারেল হায়দারি তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ আট বছরব্যাপী ইরাক-ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা কোনোভাবেই পিছু হটবে না। মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিনব্যাপী চলা সংলাপ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও দেশটিতে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তাদের সামরিক কার্যক্রম শুরু করে।বর্তমানে ইরানে এই ভয়াবহ সংঘাতের ষষ্ঠ দিন চলছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, টানা ৬ দিনের এই যুদ্ধ ও বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার মানুষ। আহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই অঞ্চলে চরম মানবিক বিপর্যয় ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে জেনারেল হায়দারি স্পষ্ট করেছেন যে, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতিপক্ষকে সামরিকভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন