মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে বিশেষ পাহারার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক সংবাদ সম্মেলনে এই সামরিক নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ার এবং চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই হু হু করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি তৈরি হতে পারে।মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ চলাচলের অধিকার রক্ষায় তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন রণতরীগুলো এখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও তেলের জাহাজগুলোকে বিশেষ এসকর্ট বা নিরাপত্তা প্রদান করবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই পথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যেকোনো ধরনের উসকানি বা হামলার জবাব দিতে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে। সামগ্রিকভাবে এই জলপথকে কেন্দ্র করে দুই দেশের স্নায়ুযুদ্ধ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন