মার্চ ১৭, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গর্ব এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন অভ্যন্তরীণ সংকটে বিপর্যস্ত। কোনো শত্রু রাষ্ট্রের আক্রমণ নয়, বরং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত যান্ত্রিক বিভ্রাটে রণতরিটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত সপ্তাহে রণতরিটির লন্ড্রি অংশে লাগা আগুন টানা ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
এই দীর্ঘস্থায়ী অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন নৌসেনা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল দুইজন নাবিকের সামান্য আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে, তবে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল বলে জানা গেছে।
আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণে রণতরিটির অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের নির্ধারিত আবাসন বা থাকার জায়গা হারিয়েছেন। বর্তমানে এই বিশালসংখ্যক সেনা রণতরির মেঝে কিংবা ডাইনিং টেবিলের ওপর রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া লন্ড্রি সেকশনটি পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় জাহাজে থাকা কয়েক হাজার ক্রুর পোশাক পরিষ্কারের কাজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের এই দানবীয় রণতরিতে কেবল আবাসন সংকট নয়, বরং টয়লেট এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থাতেও দীর্ঘদিনের বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এনপিআরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই এই বিশালাকৃতির জাহাজের টয়লেট মেরামতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। ১০ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রুর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা এখন চরম অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ১ লাখ টন ওজনের এই দানবীয় রণতরিটি লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে। যদি আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি সাগরে অবস্থান করে, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরির ইতিহাসে দীর্ঘতম মোতায়েনের রেকর্ড। যান্ত্রিক সমস্যা এবং অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরণের ধকল সত্ত্বেও মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে যে তাদের নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল একটি যুদ্ধজাহাজে এ ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি ও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। লোহিত সাগরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই যান্ত্রিক বিপর্যয় নৌসেনাদের মনোবলকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন