মার্চ ২৪, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী বক্তব্য প্রদান করেছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে সংকট সমাধানে গঠনমূলক আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে বাজার অস্থিতিশীল করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই স্ববিরোধী অবস্থানের ফলে বৈশ্বিক তেল বাজার ও কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে যদি ইরান হরমুজ প্রণালীকে হুমকিমুক্তভাবে খুলে না দেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরাসরি হামলা চালাবে।
তবে সোমবার ট্রাম্প সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে দেন এবং বলেন যে ইরানকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
গালিবাফের মতে এ ধরনের ভুয়া খবরের মাধ্যমে মূলত আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল ও আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে তেহরানের এই অনড় অবস্থানের মাঝেও আলোচনার কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ওয়াশিংটনের কিছু প্রস্তাব পেয়েছেন যা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সিবিএস নিউজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে এই প্রস্তাব আদান-প্রদানকে সম্ভাব্য আলোচনার একটি প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এখনো দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরাসরি আলোচনা শুরু হয়নি। এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা চুক্তির ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথ্যকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে পর্দার আড়ালে কোনো তৎপরতা চলছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন