মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের কোনো লক্ষণ না থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক পদক্ষেপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কায় বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড ১০৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল, তবে ইরান আপাতত কোনো সংলাপে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তেহরানের এই অনড় অবস্থানের ঘোষণা আসার পরপরই বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছায়।
এর ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক দরপতন ঠেকিয়ে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ার ভয়ে আমদানিকারক দেশগুলো আগাম মজুত করার চেষ্টা করছে যা দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, কেবল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নয়, বরং রাশিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বৃহস্পতিবারের আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ১৩ ডলার বেড়ে ১০৩ দশমিক ৩৫ ডলারে অবস্থান করছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ০৮ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯১ দশমিক ৪০ ডলারে। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই দাম ১০৭ ডলারে উন্নীত হওয়ায় আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বৈশ্বিক এই অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন