বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

একঘরে হয়েও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পথে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

একঘরে হয়েও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পথে ইসরাইল

ইসরাইলের সামরিক প্রস্তুতির চিত্র

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিকভাবে চরম একঘরে হয়ে পড়লেও ইসরাইল আদতে পিছু হটছে না, বরং বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশে সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি এক যুদ্ধের ছক কষছে দেশটি। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। 

তার মতে, দেশটির সাম্প্রতিক ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট, যা ইসরাইলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, মূলত একাধিক রণাঙ্গনে একসাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছারই বড় প্রমাণ।

এলমাসরি তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সামরিক তহবিল সরবরাহ করে থাকে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই অর্থের পরিমাণ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এই গবেষক মনে করেন, ইসরাইলের অভ্যন্তরে এখন একটি নতুন উপলব্ধি তৈরি হচ্ছে যে পরিস্থিতি আগের মতো নেই। 

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সাধারণ মার্কিনিদের একটি বড় অংশ শুধু ইসরাইলি কর্মকাণ্ডেরই নয়, বরং ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন নিঃশর্ত সমর্থনেরও প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন।ইসরাইলের এই বিশাল অংকের বাজেট ইঙ্গিত দেয় যে, দেশটি নিজেকে কোনো একক যুদ্ধ বা একাধিক ফ্রন্টের সংঘাতের শেষ পর্যায়ে মনে করছে না। বরং তারা মনে করছে যুদ্ধের বড় অংশ এখনও বাকি। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশটি হয়তো এখন সংঘাতের মাঝামাঝি অথবা একেবারেই শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতি কেবল ঘরোয়া নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে আরও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য।মোহাম্মদ এলমাসরি আরও বলেন, তথাকথিত ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ গড়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে দেশটি। 

আর এই লক্ষ্যপূরণ করতে সিরিয়া, লেবানন থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত বা একাধিক ধারাবাহিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গবেষকদের আশঙ্কা, ইসরাইলের এই অনমনীয় মনোভাব এবং ব্যাপক সামরিক বিনিয়োগ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।