মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহে বাল্টিক সাগর সংলগ্ন এলাকায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে বারবার আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যা কয়েক দিন ধরে জ্বলছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ থেকে রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে অন্তত তিনটি বড় তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উস্ত-লুগা ও প্রিমরস্ক বন্দর এবং কিরিশি তেল শোধনাগার।
ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি আজ মঙ্গলবার জানান, সোমবার রাতেও উস্ত-লুগা বন্দরে পুনরায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আগের দিনগুলোতে ছড়িয়ে পড়া আগুন জ্বালিয়ে রাখা এবং রুশ তেল ধমনিকে অচল করে দেওয়া।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার ড্রোজডেনকো জানিয়েছেন, এই হামলায় ৩৮টি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত দুজন শিশুসহ তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য বলছে, রাশিয়ার মোট তেল রপ্তানির ৪২ শতাংশই সম্পন্ন হয় উস্ত-লুগা ও প্রিমরস্ক বন্দর দিয়ে। ফলে এই হামলায় রুশ অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৬ ও ২৭ মার্চ রাশিয়ার বাল্টিক বন্দরগুলো থেকে কোনো তেলবাহী জাহাজ ছেড়ে যায়নি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম টানা দুই দিন রাশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে প্রিমরস্ক বন্দরে অন্তত আটটি বিশাল তেলের ট্যাংক ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে।
একইভাবে উস্ত-লুগাতেও আটটি এবং কিরিশি শোধনাগারে দুটি স্টোরেজ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাসার স্যাটেলাইট রিসোর্স `ফার্মস` (FIRMS) গত সোমবারও ওই এলাকায় ব্যাপক তাপমাত্রার উপস্থিতি বা আগুনের সংকেত শনাক্ত করেছে।ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিরিশি শোধনাগারটি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তিনটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের একটি। এখান থেকেই রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
রয়টার্সের এক পরিসংখ্যান বলছে, ইউক্রেনের এই প্রাথমিক দফার হামলার পর ২৫ মার্চ নাগাদ রাশিয়ার তেল রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশ স্থগিত হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনার প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজার যখন অস্থির, ঠিক তখনই রাশিয়ার রপ্তানি অবকাঠামোতে এই হামলা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, মিত্র দেশগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় কিয়েভকে রুশ জ্বালানি খাতে হামলা কমাতে অনুরোধ করেছে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর হামলা চালানো বন্ধ না করে, তবে কিয়েভের এই পাল্টা প্রতিরোধও থামবে না।
গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থ জোগান দেওয়া তেল ও গ্যাস খাতকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম আরও বাড়লে ওয়াশিংটন কিয়েভের ওপর এই ধরনের কৌশলগত হামলা বন্ধের জন্য চাপ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য:বিসি নিউজ


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন