এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের আবহে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই জ্বালানি সরবরাহ বর্তমানেও সচল রয়েছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটেও ভারতের এই বিশেষ সহযোগিতা থেমে নেই।মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকেই ভারতকে একটি বিশ্বস্ত জ্বালানি সহযোগী হিসেবে পাশে পাচ্ছে বাংলাদেশ।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই এই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া আজও স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফরের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জয়সওয়াল এ প্রসঙ্গে জানান যে এই সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পথে এবং সব ঠিক থাকলে যথাসময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে প্রায় ১ লাখ টন তেল আসার খবরটি ভারতের জ্বালানি কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোলজাত পণ্য দেওয়া হয়েছে বলে দিল্লির এই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এছাড়া নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের জ্বালানি খাতের যে প্রথাগত সহযোগিতা রয়েছে, সেটিও কোনো বিঘ্ন ছাড়াই চলমান রয়েছে। জয়সওয়াল আরও জানান যে মালদ্বীপ সরকারের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ এসেছে। মালে প্রশাসন তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পেট্রোপণ্য পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে মালদ্বীপের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেখছে। তবে নিজস্ব মজুত এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। রণধীর জয়সওয়ালের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ও প্রতিবেশীদের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।
ভারতের এই কূটনৈতিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে বড় ধরণের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে ভারতের এই সরবরাহ ব্যবস্থা চলমান যুদ্ধের প্রভাব থেকে প্রতিবেশীদের সুরক্ষা দিচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন