এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে বলে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম শীর্ষ সহযোগী স্টিফেন মিলার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে আনতে এবং একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতেই ওয়াশিংটন এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর সেই বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর ঠিক পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। স্টিফেন মিলার মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যমটিকে বলেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত একজন শান্তির মানুষ কিন্তু তিনি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ধরনের খবরদারি বরদাশত করবেন না। তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না—এটিই ওয়াশিংটনের বর্তমান চূড়ান্ত অবস্থান।
সাক্ষাৎকারে স্টিফেন মিলার ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাতের ইঙ্গিতও প্রদান করেছেন। তিনি বলেন যে কেবল একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমেই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো কয়েক বছরের জন্য পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে এমন কোনো ধ্বংসাত্মক পথে যেতে চায় না। ওয়াশিংটন প্রত্যাশা করছে যে তেহরান প্রশাসন পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সঠিক পথ বেছে নেবে।
তবে ইরান যদি ভুল পথে চলা অব্যাহত রাখে তবে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে মিলার দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ইসলামাবাদের ব্যর্থ আলোচনা এবং এর পরবর্তী এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হোয়াইট হাউসের এই বার্তার মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে অটল রয়েছে।
এখন দেখার বিষয় যে তেহরান এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ও সম্ভাব্য সামরিক হুমকির বিপরীতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংকট নিরসনে নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে কি না। তবে বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান ও এই কঠোর হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন