রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

হেগসেথের চরম হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধ শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।

পেন্টাগনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং যতদিন প্রয়োজন মনে হবে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 হেগসেথ উল্লেখ করেন যে, ইরানের নৌবাহিনীর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ করে দিয়েছে।সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, ইরান তাদের সামরিক সরঞ্জাম কোথায় সরিয়ে নিচ্ছে বা কী ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ অবগত। 

ইরানকে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি বলেন যে, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর মার্কিন বাহিনী কড়া নজরদারি রাখছে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক কাজ করলে তার ফল ভালো হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা এলো। হেগসেথের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন আর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। ইরান যদি কূটনৈতিক সমাধানের পথে না হাঁটে, তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর এই একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি এবং সরাসরি যুদ্ধের হুমকি ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তেলের বাজারে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান এখন এই হুমকির জবাবে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।