শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খাদ্যসংকটের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

খাদ্যসংকটের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

তীব্র খাদ্যসংকটের ঝুঁকি

বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের একটি বিশাল অংশ অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অবস্থান মাত্র ১০টি দেশে, আর সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের খাদ্য নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখানো হয়েছে যে বিশ্বের এক একটি অঞ্চল কীভাবে দুর্ভিক্ষের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের বসবাস আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে। 

শুধু সুদান, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো—এই তিন দেশেই মোট আক্রান্ত মানুষের এক-তৃতীয়াংশ অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দেশটি এখনো শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১০ দেশের তালিকা থেকে বের হতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মূলত দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এবং চরম বৈরী জলবায়ু পরিস্থিতি এই ভয়াবহ সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নেই। বরং অনেক দেশে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা খাদ্য উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সিরিয়া ও বাংলাদেশের মতো কিছু দেশে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও আফগানিস্তান, কঙ্গো ও মিয়ানমারের অবস্থা প্রতিনিয়ত আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত ও উত্তেজনা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ চেইনকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও এই সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, রোপণের মৌসুমে জ্বালানি তেলের দাম এবং সারের দাম বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই সংকট থেকে উত্তরণে তিনি স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বৃদ্ধি, মাটির গুণগত মান উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ফসলের চাষে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না নিলে খাদ্য সংকট আরও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।