সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য

জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং এর বিশ্বব্যাপী প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ জরুরি বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য সরকার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার নিজেই সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের জরুরি কমিটি ‍‍`কোবরা‍‍`-র বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। মঙ্গলবার লন্ডনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি এই কমিটিতে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

মূলত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির অবস্থান কেমন হবে, তা সমন্বয় করতেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। সোমবার সকালে ল্যাঙ্কাশায়ারে ইউএসডিএডব্লিউ (USDAW) ট্রেড ইউনিয়ন সম্মেলনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো যুদ্ধে ব্রিটেন কখনোই সরাসরি যুক্ত হবে না। 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, যে যুদ্ধে ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থ বা প্রয়োজন জড়িত নেই, সেখানে এই দেশকে টেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্টারমারের এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোর একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন।ল্যাঙ্কাশায়ারের ওই সম্মেলনে স্টারমার বর্তমান সংকটের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা ব্রিটিশ জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। 

তাই কোবরা বৈঠকে শুধু সামরিক বা কৌশলগত দিক নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেন।যুক্তরাজ্যের ‍‍`কোবরা‍‍` কমিটি সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা বা ভয়াবহ কোনো আন্তর্জাতিক সংকটের সময় সক্রিয় করা হয়। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করছে। 

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের মতো বিশ্বশক্তির নিরব থাকা বা সক্রিয় হওয়া—দুই দিকই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। স্টারমার তার ভাষণে ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রিটেন এখন অনেক বেশি সতর্ক। কোনো আবেগী সিদ্ধান্ত নয়, বরং যুক্তিনির্ভর এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকারী পদক্ষেপই হবে তার সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

লন্ডনে অনুষ্ঠেয় এই জরুরি বৈঠকের পর ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হতে পারে। সেখানে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের কূটনৈতিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য মানবিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। তবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখার যে সংকল্প স্টারমার প্রকাশ করেছেন, তা এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলে বড় আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন ল্যাঙ্কাশায়ারের বক্তব্যের পর ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।