মে ৪, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো ওপার বাংলা। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করে রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা দখল করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৫৯টি আসনে জয় লাভ করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভারতের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন, সেখানে বিজেপি ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
ভারতের স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম কোনো অ-বামপন্থী ও অ-কংগ্রেসীয় দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী দুর্গ ভবানীপুরে পরাজিত হয়েছেন।
সেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি ১১ হাজার ৩ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। ১৮তম রাউন্ডের গণনা শেষে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭৮২ ভোট এবং শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট।শুধু ভবানীপুর নয়, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনেও জয়ী হয়েছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ১০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও শুভেন্দু নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তৃণমূলের গত তিনবারের শাসনামলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে মানুষ বিজেপিকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। মমতার পতন এবং বিজেপির এই উত্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন