রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সহিংসতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৬, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সহিংসতা

সহিংসতা রুখতে টহল দিচ্ছে পুলিশ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতায় পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। 

তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম—তিন দলের পক্ষ থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন করের পায়ে গুলি লেগেছে। 

মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। তখন একটি বাড়ির ভেতর থেকে ছোড়া গুলি তার পায়ে লাগে। এতে এক কনস্টেবলও আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বীরভূমের নানুরে মঙ্গলবার আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, রাস্তায় একা পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জখম করে। অন্যদিকে, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যাদব বর নামে ৪৮ বছর বয়সী এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে জয়ের আনন্দ উদযাপনের পর তাকে আক্রমণ করা হয় বলে বিজেপির দাবি। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মুর্শিদাবাদের ডোমকলে শফিকুল ইসলাম নামে এক সিপিএম কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। বর্তমানে তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এছাড়া জিয়াগঞ্জের শ্রীপত সিংহ কলেজের সামনে থাকা লেনিনের একটি আবক্ষ মূর্তি ভাঙচুর করার খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল যুবক স্লোগান দিতে দিতে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে মূর্তিটি গুঁড়িয়ে দেয়।

তৃণমূলের পক্ষ থেকেও দলের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে জয়ী প্রার্থী বীণা মণ্ডলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেছেন যে, কলকাতার নিউ মার্কেটে মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিজয় মিছিলে বুলডোজার ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ফল প্রকাশের পর থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ পার্টি অফিস এবং ১৫০ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে দল একটি ১২ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। তিনি দলীয় কর্মীদের শক্ত থাকার আহ্বান জানান।

বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে এই সহিংসতা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত না করার এবং শান্তিতে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রশাসনকে যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন তিনি। বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।