মে ৬, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
এক দশকেরও বেশি সময় আগে নরেন্দ্র মোদি যখন দেশ পরিচালনার জন্য প্রথম প্রচারণা শুরু করেন, তখন তিনি কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠাতা দল কংগ্রেস এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভারতের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে কংগ্রেস আর সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সে সময় পার্লামেন্টে দলটির আসনসংখ্যা ২০৬ থেকে কমে ৪৪-এ নেমে আসে। বর্তমানে ভারতের ২১টি রাজ্য মোদির শাসক জোটের দখলে রয়েছে, যেখানে কংগ্রেস মাত্র চারটি রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে।
কংগ্রেসের পতনের পর ভারতজুড়ে আঞ্চলিক দলগুলোই ছিল বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডার প্রধান প্রতিপক্ষ। এই দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিন।
তবে চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে মমতা ও স্ট্যালিন উভয়েই পরাজিত হয়েছেন। এর ফলে ভারতের রাজনীতিতে মোদির বিরোধীদের হাতে কার্যত আর কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি ভারতকে এখন একটি একক নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রের মতো করে তুলছেন। স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরু যে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের আদর্শ তুলে ধরেছিলেন, তা এখন বিজেপির রক্ষণশীল হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নের কাছে পরাজিত হচ্ছে। বিজেপি তার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ব্যবসাবান্ধব ইমেজের কারণে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে।
২০২৪ সালের জুনে জোট সরকার গঠন করলেও পরবর্তীতে বিজেপি রাজ্যস্তরের ধারাবাহিক বিজয় নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম শুরু করে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার সুগত শ্রীনিবাসরাজুর মতে, ২০২৪ সালে মোদি ছিলেন এক আহত বাঘের মতো, যিনি এখন ঠান্ডা মাথায় প্রতিশোধ নিতে মাঠে নেমেছেন।
বিজেপির এই অগ্রযাত্রা একের পর এক চমক নিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে হরিয়ানায় জয়ের পর মহারাষ্ট্রেও বিজয় ছিনিয়ে নেয় দলটি। ২০২৫ সালে ২৭ বছর পর প্রথমবারের মতো রাজধানী দিল্লিতে জয় লাভ করে বিজেপি, যেখানে পরাজিত হন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
গত বছর বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ পড়ে এবং অন্তত ২৭ লাখ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। বিহারে নিরীক্ষা কার্যক্রমের কারণে বহু মুসলিম সংখ্যালঘু ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব বিতর্ক ছাপিয়ে বিজেপি বিশাল জয় নিশ্চিত করে।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় সম্পর্কে কলকাতার ভোটাররা বলছেন, শিল্পে স্থবিরতা এবং বেকারত্বের কারণে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। সেখানে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় থালাপতির দল।
বিশ্লেষক আরতি জেরথ মনে করেন, বিজেপির নির্বাচনী যন্ত্র অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করেছে এবং প্রতিপক্ষের সমর্থনের ফাটলগুলো কাজে লাগিয়েছে। বর্তমানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ২০২৯ সালে ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সময় মোদির বয়স হবে ৭৮ বছর। তিনি আবারও দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না তা নিশ্চিত না হলেও, আপাতত ভারতের রাজনীতিতে তার কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন