শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঘিরে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঘিরে নতুন আলোচনা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বড় জয়ের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতাদের দেওয়া ‘পুশ-ইন’ বা কথিত অবৈধদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকির প্রেক্ষিতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার (৬ মে) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দিয়েছি যাতে তারা সীমান্তে সতর্ক থাকে। যদিও বড় ধরনের কোনো ঘটনার সম্ভাবনা কম, তবে যেকোনো পরিস্থিতি যেন তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করা যায় সেজন্য এই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে এই প্রথম দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি বিজয়ী হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সেখানকার বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্য, বিশেষ করে মুসলিমদের নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বিরূপ বক্তব্য সীমান্তের ওপারেও আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও তা প্রতিবেশী দেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, এর আগে মমতা ব্যানার্জীর ওপর দায় চাপানো হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো চুক্তি হওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, যেহেতু এখন পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে, তাই তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মুখ্য হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময়ের রাজনৈতিক বক্তব্য সবসময় রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে রাতারাতি বড় কোনো পরিবর্তন আনে না।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যারাই আসুক না কেন, দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ তার পূর্বের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই কাজ করে যাবে। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের সরকার মনে করছে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও সীমান্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে যেন সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পুশ-ব্যাক বা অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেদিকে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মূলত পররাষ্ট্র নীতি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হলেও পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন সামাজিক ও সীমান্ত পর্যায়ে নতুন মাত্রার প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।