মে ২, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পুরোদমে ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে এবং ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সেই সফরে ঢাকার পক্ষ থেকে উত্থাপিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগসহ সব ভিসা কেন্দ্র কার্যকর রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির পক্ষ থেকেও দ্রুত একই ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে ঢাকা।ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর গত দুই মাসে ভারতের নাগরিকদের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে সীমান্ত পারাপারের ভিসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লি সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে, যেখানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।ভারতীয় সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত বছর ভিসা সেবা ব্যাহত হলেও তা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এই মুহূর্তে চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।শীঘ্রই বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত দ্রুতই পুরোদমে ভিসা সেবা চালু করবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে আসা বিদেশি পর্যটকদের ২০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি। ২০২৩ সালে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে। দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও জ্বালানি সংযোগসহ অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন