রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৮, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা। (ছবি: সংগৃহীত)

এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন করা তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালিয়েছে। 

এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে এই সংঘাতের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়া একটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়ে প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। মূলত এর প্রতিশোধ নিতেই তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হামলার মুখে পড়লেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই প্রণালি পার হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অনায়েসেই ধ্বংস করেছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তিতে সই না করলে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।তবে সংঘাত সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনো ‘অক্ষত’ আছে বলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষের জেরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি নীতি লঙ্ঘন করেছে।

বর্তমানে দুই দেশের কর্মকর্তারা ৩০ দিনের জন্য শত্রুতা বন্ধ এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধই এই চুক্তির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।