মে ১১, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ জনপদ লেবানন ও গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদের শহরে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের হ্যারেত সাইদা ও আল-সাকসাকিয়্যাহ গ্রামে নিহতদের জানাজা ও দাফনের সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
শত শত মানুষ তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে বিলাপ করছেন, নারীরা নিহত স্বজনদের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিনের কথায় সেখানে বসবাসকারী মানুষের চরম অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, সেখানে প্রতিটি সেকেন্ড মৃত্যুর আতঙ্ক তাড়া করে ফেরে এবং কাজ করতে এসে তারা যেন আগেই জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
এদিকে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতিও সমানভাবে ভয়াবহ। আল-শাতি শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া স্বজনদের উদ্ধারে সেখানে চলছে হাহাকার।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে দেশটিতে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে গাজায় নিহতের সংখ্যা এখন ৭২ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশ্ববিবেকের কাছে বিচারের দাবি জানালেও থামছে না এই প্রাণহানি।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ১৬ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হামলার মাত্রা কমার বদলে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ১২ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য ও আশ্রয়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই জনপদগুলো এখন কেবলই লাশের মিছিল আর ধ্বংসের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন