রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা শুভেন্দুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে।

সোমবার (১১ মে) রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নীতিশ প্রামাণিক। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আমলারাও এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবে। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস বদলে গেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যেই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এই প্রকল্পে রাজ্যের মানুষকে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন কেন্দ্রীয় অপরাধ আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস) কার্যকর হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় ঘোষণা এসেছে এই বৈঠক থেকে। দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন নিয়োগে আবেদনকারীদের বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ২০১৫ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত বড় কোনো নিয়োগ হয়নি, তাই চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় এই বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে।একই সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগও পুনরায় চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকার রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে পাঠাত না, তবে এখন থেকে সেই বাধা থাকবে না।

নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও চলমান সামাজিক প্রকল্পগুলো বন্ধ করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে চালু থাকা সব প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো অবৈধ ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তির নামে সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। বর্তমানে চালু থাকা স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়াগুলো বজায় রেখেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।