রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায়ে শুভেন্দুর নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায়ে শুভেন্দুর নিষেধাজ্ঞা

রাস্তায় নামাজ নিয়ে শুভেন্দুর নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় নামাজ আদায়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা ও ব্যারাকপুরের সাবেক সংসদ সদস্য অর্জুন সিং। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তার এই বিবৃতির পর দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্জুন সিং বলেন, ‘ক্যাবিনেট মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তায় নামাজ পড়া বরদাস্ত করা হবে না। মসজিদে নামাজ পড়লে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু রাস্তায় পড়া যাবে না।’ তার এই সাক্ষাৎকারের পর একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে অনেকে যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করেন।

অর্জুন সিং আরও জানান, নামাজ পড়ার পাশাপাশি গরু পাচার, চোরা কারবার ও পুলিশের ওপর ঢিল-পাটকেল ছোড়ার বিরুদ্ধেও নতুন সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত সোমবার (১১ মে) পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা তাদের প্রথম বৈঠক করে। 

এর পর পুলিশ ও জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি একাধিক নির্বাহী আদেশ দেন বলে জানা গেছে। ভারতের সংবিধানের ৭৭ নম্বর ধারায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেটকে প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজের রূপরেখা নির্ধারণে এই ধরনের আদেশ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।তবে এই আদেশের পরিধি নিয়ে দ্বিমতও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমন একটি আদেশ সত্যিই দেওয়া হয়েছে, তবে তাতে নির্দিষ্টভাবে নামাজ বন্ধ করার কোনো উল্লেখ নেই।

পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা আটকে নামাজ পড়ার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার বিজেপির বিভিন্ন নেতাকে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। গত বছর কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ আয়োজনের অনুমতি প্রথমে দেয়নি সেনাবাহিনী, কারণ রাস্তাটি তাদের অধীনে ছিল। তবে পরে তারা অবস্থান থেকে সরে এসে অনুমতি দেয়। সে সময়ও রেড রোডে নামাজ পড়া নিয়ে বিজেপির একাধিক নেতা গণমাধ্যমের সামনে আপত্তি তুলেছিলেন।

এদিকে, প্রশাসনের নতুন কিছু নির্দেশিকার সমর্থন করেছেন অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুল সেলিম। তিনি বলেন, ‘কাটা মাংস ঢেকে বিক্রি করা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক নির্দেশিকা সমর্থনযোগ্য।’