মে ১৫, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৮তম অধিবেশনের স্পিকার হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বোস। শুক্রবার (১৫ মে) বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্র বোসের নাম স্পিকার পদে প্রস্তাব করেন। পরে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। বিজেপির ২০৭ জন বিধায়ক তার পক্ষে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি ছিলেন এই পদের জন্য একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই পদে কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় রথীন্দ্র বোসের জয় ছিল অবধারিত। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের পরিষদে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
রথীন্দ্র বোস পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাথে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে তার। উত্তরবঙ্গের এই পরিচিত রাজনৈতিক মুখকে স্পিকার হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি ওই অঞ্চলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের দীর্ঘ সময় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। বামফ্রন্ট সরকারের শাসনকালে সৈয়দ আবদুল মনসুর হাবিবুল্লাহ ও হাশিম আবদুল হালিমের মতো জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা এই পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। রথীন্দ্র বোসকে গত বৃহস্পতিবারই স্পিকার পদের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল বিজেপি। বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন স্পিকারকে তার নির্ধারিত আসনে নিয়ে যান।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর অধিবেশনে বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীদলীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখলেও সেখানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তাপ ছড়ায়। তিনি স্বাগত ভাষণের মাঝেই নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার অভিযোগ উত্থাপন করেন। নতুন স্পিকারের উপস্থিতিতেই বিধানসভায় এটি ছিল প্রথম রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। গত এক দশকে উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হওয়ায় রথীন্দ্র বোসের এই নিয়োগকে অত্যন্ত কৌশলগত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন