জুন ৫, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন চালক হয়ে উঠেছে ইরান। তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি কার্যত অবরুদ্ধ করার সক্ষমতা দেখিয়েছে দেশটি। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।হরমুজ প্রণালি এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন যেকোনো চুক্তির পথকে কঠিন করে তুলেছে। এমনকি কোনো চুক্তি হলেও তা ইরানকে তাদের নতুন জ্বালানি শক্তির প্রভাব থেকে দূরে রাখতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা থাকলেও তার জন্য অর্থনীতিকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।সার, জেট ফুয়েল ও অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।পারস্য উপসাগরীয় এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ মনে করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক চাপের মুখেও এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ইরানের নতুন পারমাণবিক বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ইরান পিজিএসএ বা পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি নামে নিজস্ব ট্রানজিট প্রোটোকল চালু করেছে।যুক্তরাষ্ট্র এই কর্তৃপক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে বাধ্য হচ্ছে দেশগুলো।বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না রেখে আংশিক নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়েছে ইরান।
এটি পুরোপুরি বন্ধ থাকলে বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন উড ম্যাকেঞ্জির অর্থনীতিবিদরা। ট্রানজিট ফি হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে ট্যাংকারপ্রতি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আদায় করেছে।বিকল্প রুট তৈরির চেষ্টা থাকলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ডাইভার্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কাতার বা কুয়েতের মতো দেশগুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা আরও বেশি জটিল। ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব অর্থনীতিকে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র:


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন