জুন ৯, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ (সিপ্রি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড কার্যকরভাবে বা ‘অপারেশনালি ডিপ্লয়েড’ অবস্থায় মোতায়েন করেছে।
এতদিন ভারত তার পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আলাদা স্থানে মজুত রাখত। কিন্তু বর্তমান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১২টি ওয়ারহেড সম্ভবত সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা এমন সব সামরিক ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে,
যেখান থেকে এগুলো দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া, ভারতের নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে অস্ত্র প্রস্তুত রাখা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মোট মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে। ভারত তার ক্রমবিকাশমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ বা স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথ থেকে পারমাণবিক হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারত তার নিরাপত্তা কৌশলকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সামরিক সক্ষমতার এই পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে, যা এখন আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন