রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানালো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানালো ইরান

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। পরবর্তী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুট দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জলযান চলাচল পুরোপুরি স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি ও আনুষ্ঠানিক পোস্টে ইরানের নবগঠিত পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ বা পিজিএসএ এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা বিশ্ববাসীকে জানায়।

বিবৃতিতে মার্কিন আগ্রাসী বাহিনীর সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনাকে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।পিজিএসএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে যেসব আন্তর্জাতিক জাহাজ ইতিমধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করার অনুমতি পেয়েছিল, তাদের সাময়িকভাবে ধৈর্য ধরতে এবং পরবর্তী নির্দেশনার জন্য সাগরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। 

মূলত গত বুধবার (১০ জুন) রাতে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন বাহিনী নতুন করে আকস্মিক বিমান হামলা চালানোর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি পাল্টা এই কঠোর ঘোষণা দেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করছে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কয়েক মাস ধরেই চলমান ভূরাজনৈতিক যুদ্ধের কারণে কার্যত বড় ধরনের অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। 

বৈশ্বিক খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গানের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তীব্র এই সংঘাতের কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে তেহরান শুধুমাত্র তাদের সঙ্গে পূর্ব সমন্বয়কারী জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিলেও মার্কিন প্রশাসন তাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় না করার কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছিল। এই সামুদ্রিক অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।