জুন ২১, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযানের অধিকাংশ ঘটনাই মূলত বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।গত দেড় মাসে ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সরকারি জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্তকরণ, অনুমোদনহীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিভিন্ন নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও জোরপূর্বক এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের মতে, কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
আকস্মিক এই উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনার কারণে অনেক এলাকায় তীব্র সামাজিক উদ্বেগ ও সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় স্থানীয় ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনের যে ধরনের প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা দেখানো উচিত ছিল, তা এখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।
ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অনতিবিলম্বে পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন যে এই উচ্ছেদ পদক্ষেপগুলো নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে তীব্র ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে একপক্ষ প্রশাসনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছে।
তথ্যসূত্র: মুসলিম মিরর

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন