বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর শিশুকে জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ১, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর  শিশুকে জীবিত উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাটিকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক নতুন আশার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে।উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যে দেখা যায়, লা গুয়াইরা রাজ্যের ধসে পড়া কংক্রিটের নিচ থেকে শিশুটিকে বের করে আনার পর উদ্ধারকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, এই উদ্ধার অভিযান বিপর্যয়ের মুখে থাকা দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শিশুটিকে বর্তমানে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ। 

তিনি বলেন, ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের পাওয়ার আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়। সেই হিসেবে ছয় দিন পর ক্লিয়েবারের জীবিত ফিরে আসাকে অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ এবং হাজার হাজার বাসিন্দা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ তীব্র আশ্রয় সংকটে ভুগছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছেন, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় মৌলিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। সংস্থাটি অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জরুরি ত্রাণের জন্য প্রাথমিকভাবে দেড় কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি