জুলাই ২৯, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণসাগর উপকূলের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর মাঝেই ইউক্রেনের চর্নোমর্স্ক বন্দরে নোঙর করা একটি কার্গো জাহাজে আটকে পড়েছেন অন্তত তেরো জন ভারতীয় নাবিক। চলমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতার কারণে তারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন বলে ফরওয়ার্ড সিমেন্স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এফএসইউআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মোট পনেরো জন ক্রু সদস্যের ওই জাহাজে ভারতীয় নাগরিকদের এই আটকা পড়ার ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।কৃষ্ণসাগর উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শঙ্কা বাড়ছে।এফএসইউআইয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এমভি আমির-১ নামের কার্গো জাহাজটি ইউক্রেনের চর্নোমর্স্ক বন্দরে এসে পৌঁছানোর পর বর্তমান সংঘাতের কারণে আর বন্দর ত্যাগ করতে পারছে না। সম্ভাব্য সরাসরি সামরিক হামলার আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানে আটকা থাকা নাবিকেরা।
এই জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকার, জাহাজের সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে কৃষ্ণসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নয়াদিল্লি অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি বাণিজ্যিক নৌপথগুলোতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা বিধান নিয়ে বিশ্বজুড়ে নৌপরিবহন সংস্থাগুলোর মাঝেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরের কৌশলগত বন্দরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নাবিকদের জীবন রক্ষায় জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে।যুদ্ধের এই তীব্রতার মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন