আগস্ট ৭, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার পাঁচশটিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে যে ক্যাটাগরি-এক মাত্রার এই টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় একশো চুয়াল্লিশ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি প্রায় একশো আটানব্বই কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মধ্যবর্তী দ্বীপমালার দিকে এই ঝড়টি বর্তমানে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। টাইফুনের প্রভাবে অত্যন্ত প্রবল বাতাস, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উত্তাল সমুদ্রের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝুঁকির মুখে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা তাদের নয়টি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে ওকিনাওয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়ও টাইফুনটি তার শক্তি ধরে রাখতে পারে। এর ফলে শক্তিশালী বাতাসের কারণে ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি বা ধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে কিউশু অঞ্চলের কুমামোতো প্রিফেকচার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটানোর আগেই নতুন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভূমিকম্পের কারণে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ছয় হাজার সাতশ মানুষ এখনও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
ঝড়ের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তাপমাত্রা ছত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন