আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০৬:২১ পিএম
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সাথে এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) মহাপরিচালক ইরফান আলী কাঠিয়া রোববার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, সিন্ধু পানিচুক্তির আওতাধীন শতদ্রু, রাভি ও চেনাব—এই তিনটি প্রধান নদীতে বিপজ্জনক মাত্রায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পুরো প্রদেশজুড়ে পুরোদমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তান যখন নজিরবিহীন বন্যার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু পানিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, নয়াদিল্লি সময়মতো বন্যার আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে না।
চলতি মৌসুমি বৃষ্টির শুরুর পর গত জুনের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বন্যাজনিত ঘটনায় পাকিস্তানে অন্তত ৮৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাপক অবকাঠামো ও সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পিডিএমএ প্রধান আরও জানান, এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম উদ্ধার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে কাঠিয়া বলেন, ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। প্রাদেশিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেছেন, পাঞ্জাব এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিনটি প্রধান নদী একইসঙ্গে ‘সুপার ফ্লাড’-এ পৌঁছেছে। তিনি আরও জানান, শতদ্রু নদীর গণ্ডা সিং ওয়ালা, খাঙ্কি ও কাদিরাবাদ এলাকায়ও পানির প্রবাহ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। শুধু রাভি সেতু এলাকায়ই পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ কিউসেক।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন