অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১১:২৭ পিএম
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে শক্তিশালী বিমান ও স্থল হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই হামলা কখন এবং ঠিক কোথায় চালানো হবে, সে বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামাসের দ্বারা চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলের অভিযোগ, হামাস এখনো গাজায় আটক থাকা ১৩ জন ইসরাইলি বন্দির মৃতদেহ হস্তান্তর করেনি, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী এই মৃতদেহগুলো ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে যে ওই বন্দিদের মৃতদেহগুলো গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে এবং সেগুলো উদ্ধার করার জন্য বিশেষজ্ঞ দল ও ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।
হামাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল গত কয়েক দিনে সীমিত পরিসরে এই ধরনের সহায়তা দেওয়ার অনুমতি দিলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না এবং এই জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত সব মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো, ইসরাইলি এবং মার্কিন কর্মকর্তারা – যাদের মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রয়েছেন – তারা আগে থেকেই অবগত ছিলেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বন্দিদের দেহ উদ্ধার করা একটি অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ কাজ হবে।
চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হামাসের হাতে থাকা বন্দিদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযান আংশিক স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বন্দিদের দেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এই নতুন হামলার নির্দেশে গাজায় ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত মানবিক পরিস্থিতির আরও ভয়াবহ অবনতি ঘটবে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বন্দিদের দেহ উদ্ধারে হামাসের कथित ব্যর্থতাকে ইসরাইল নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন