বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় মোন্থার আঘাতে ১ জনের মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ১১:০৭ এএম

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় মোন্থার আঘাতে ১ জনের মৃত্যু

প্রবল শক্তি নিয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) গভীর রাতে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম শুরু করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের আঘাতে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মোন্থা মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হানে। আঘাত হানার সময় এর তীব্রতা অনেক বেশি থাকলেও, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পরবর্তী ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আরও দুর্বল হয়ে একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। উপকূলবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এখন পর্যন্ত ১২২টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই বিজয়ওয়াড়া এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ছাড়ার কথা ছিল। এছাড়াও আরও অনেক ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি এবং পার্শ্ববর্তী তেলেঙ্গানার শামশাবাদ বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ১৯টি জেলায় ঝড়বৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ 'লাল সতর্কতা' জারি করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি জেলায় 'কমলা সতর্কতা' এবং চারটি জেলায় 'হলুদ সতর্কতা' জারি রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশাতেও পড়েছে। প্রবল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় ওড়িশা সরকার বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে। রাজ্যটির উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং ১৫টি জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় মোন্থার সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা না থাকলেও এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বুধবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা ঝোড়ো হাওয়ার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।