সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার রায়ের দিন ঘোষণা আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম

শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার রায়ের দিন ঘোষণা আজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আজ নির্ধারণ করা হবে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি বর্তমানে রায়ের অপেক্ষার তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে।

প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আজ বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক মামলার রায়ের তারিখ পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

এর আগে বুধবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছে। ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে আজ মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে রায়ের দিন ধার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার অন্য দুই প্রধান আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের বাবা এবং জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

এছাড়াও স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান এবং লিখিত সাক্ষ্য দিয়েছেন বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও পরিকল্পনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তৎকালীন সরকারি দলের কর্মীরা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।

দ্বিতীয় অভিযোগে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা এবং ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিতে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পঞ্চম অভিযোগে ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে আসামিদের দায়ী করা হয়েছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।