নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৩:২৩ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় অন্যতম আসামি এবং পরবর্তীতে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এই মামলার রায় পড়া শেষে সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই দণ্ড ঘোষণা করেন। এই মামলায় তার লঘুদণ্ড নিয়েই চলছিল নানা আলোচনা।
আসামিদের মধ্যে রাজসাক্ষী মামুনের ভাগ্যে কী আছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। রায় পড়া কালে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, সাবেক আইজিপি মামুন জাতির কাছে এবং আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। আদালত এটিকে বিবেচনা করে তার লঘুদণ্ড নিশ্চিত করেছে। ফলে এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করা হলেও রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে আইজি মামুনের ফাঁসি হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
৬ ভাগে বিভক্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠা রায়ের সারসংক্ষেপ প্রায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পড়ে শোনানো হয়। দুপুর বারোটা চৌত্রিশ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়েছিল। গণহত্যার দায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম বিচারের রায়। এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় বিচার কার্যক্রম দেখানো হয়। এই মামলার অপর দুই আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন এবং বর্তমানে তারা ভারতের আশ্রয় রয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন