নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট ২৩ জন আসামি রয়েছেন। যেহেতু শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক, তাই তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার অভিযোগ ও রায়: আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের ‘দরিদ্র’ বা ‘বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য’ দেখিয়ে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন।
-
সজীব ওয়াজেদ জয়: রাজউকের আওতাধীন এলাকায় নিজের নামে আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা হলফনামায় গোপন করে এবং মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে আইন লঙ্ঘনপূর্বক ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।
-
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: রাজউকে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন না করেই কেবল মায়ের কাছে আবদার করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।
-
মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন: প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) নিজেকে ও অন্যদের বাঁচাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব বা বিনষ্ট করেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রেক্ষাপট: প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে দুদক পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া অভিযোগপত্র দাখিল করার পর গত ৩১ জুলাই বিচার শুরু হয়। গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন দমনের চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, যদিও খালেদা জিয়া সম্প্রতি খালাস পেয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন