রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক

আদালতে ইনু, মেনন ও মানিক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেলেন সাবেক দুই মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক বিচারপতি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি দীর্ঘ শুনানি শেষে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন মঞ্জুর করেন। 

আদালত প্রাঙ্গণে আজ আসামিদের হাজির করাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন হাসানুল হক ইনুকে এই মানহানি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। 

পাশাপাশি আগে থেকেই গ্রেপ্তার থাকা রাশেদ খান মেনন ও বিচারপতি মানিককেও আদালতে উপস্থিত করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ইনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তীতে তিন আসামির আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন। 

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জামিনের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আইনজীবী জিয়াউল হক বাদী হয়ে এই মানহানি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের একটি টিভি টক শোতে জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 এছাড়া ২০২১ সালের একটি সেমিনারে তিনি দাবি করেন যে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, বরং তিনি মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী ছিলেন। অন্যদিকে, ২০১৩ সালে পৃথক অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

গত ২১ জানুয়ারি এই মামলায় মেনন ও মানিককে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। আজকের জামিন আদেশের ফলে এই নির্দিষ্ট মামলায় তাদের কারামুক্তিতে বাধা না থাকলেও, অন্যান্য রাজনৈতিক ও ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তাদের এখনই জেল থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মানহানি মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।