এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের এক মামলায় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্তের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে একদিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নূরে আলম শুনানি শেষে আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে জমা দেওয়া দুদকের সেই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁর নামে ও বেনামে থাকা প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হদিস পেয়েছে কমিশন।
সংস্থার দাবি, এই অর্জিত সম্পদের সঙ্গে তাঁর বৈধ আয়ের কোনো সংগতি বা সামঞ্জস্য নেই। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, পলক নিজের ও যৌথ নামে বিভিন্ন ব্যাংকের অন্তত ২৫টি হিসেবে প্রায় ৩২ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা করেছিলেন। যার বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, এই বিশাল অর্থ মূলত ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে তাঁদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত এই অর্থ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের নির্দিষ্ট ধারা ছাড়াও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারা যুক্ত রয়েছে।
বর্তমানে জুনাইদ আহমেদ পলক অন্য মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবং অবৈধ অর্থের উৎস নিশ্চিত হতে তাঁকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন