এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার জট অবশেষে খুলতে শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মামলায় প্রথমবারের মতো একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান।
বুধবার বিকেলে কুমিল্লার একটি আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা পরিদর্শক ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজন হাফিজুর রহমানকে তার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
দীর্ঘ এক দশকে এই মামলার তদন্তে একাধিক মোড় এলেও এটিই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার। চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনএ নমুনার ভিত্তিতে সন্দেহভাজন তিনজনের নাম আদালতে জমা দিয়েছিলেন। তারা হলেন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। মূলত তাদের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে এই মামলাটি নিয়ে প্রায় ৮০টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে মামলার তদন্তভার চারটি পৃথক সংস্থার সাতজন কর্মকর্তার হাতে বদল হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা কয়েক দফায় ডিএনএ পরীক্ষা ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। বুধবার শুনানির সময় আদালতে নিহত তনুর বাবা-মা এবং ছোট ভাই রুবেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা দীর্ঘ ১০ বছর পর কোনো আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেলেও দীর্ঘদিন তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল না। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। এক দশক পর প্রথম কোনো গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তনু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন