এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির আজ ১৩ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের এই দিনে কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক নিয়ে ধসে পড়েছিল রানা প্লাজা ভবনটি। ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই শিল্প দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং আহত হন দেড় সহস্রাধিক মানুষ। তবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যাসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারকাজ আজও শেষ হয়নি।
কবে নাগাদ এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও।ভয়াবহ এই ভবন ধসের ঘটনায় সেই সময় মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এর মধ্যে অবহেলার কারণে মৃত্যুর দায়ে পুলিশ একটি হত্যা মামলা করে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দায়ের করে ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের মামলা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও সম্পদ গোপন সংক্রান্ত দুটি মামলা করে। এছাড়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলা করা হয়।
এ পর্যন্ত কেবল সম্পদ গোপনের একটি মামলায় রানাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি সবগুলো মামলাই এখন ঝুলে আছে বিচারিক মারপ্যাঁচে।রানা প্লাজার এই হত্যা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। ৫৯৪ জন সাক্ষীর দীর্ঘ তালিকার মধ্যে গত ১৩ বছরে মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয় এবং পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলোর সদিচ্ছার অভাবে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণের গতি বাড়ানো হয়েছে এবং তারা আশা করছেন চলতি বছরের মধ্যেই একটি রায় আসতে পারে।
অন্যদিকে ইমারত আইনের মামলাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। বিভিন্ন সময় এই মামলাটি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলেও এর বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরুই করা যায়নি। দুদকের দায়ের করা ইমারত নির্মাণ অনিয়মের মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে থাকলেও বারবার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় সেটিও থমকে আছে। আগামী ১৭ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন দাবি করেছেন, সোহেল রানা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণে তার মক্কেল ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৪১ জন আসামির মধ্যে কেবল ভবন মালিক সোহেল রানা কারাগারে আছেন। বাকিদের মধ্যে ১৩ জন পলাতক এবং ২৫ জন বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। মামলার প্রধান আসামির বাবা-মা ইতিমধ্যে মারা গেছেন।
নিহতদের স্বজন এবং গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা শ্রমিকদের আক্ষেপ, ১৩ বছরেও খুনিদের বিচার না হওয়াটা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় কলঙ্ক। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও তাদের অনেকের জীবন এখন দুর্বিষহ। অশনাক্ত ২৯১ জন শ্রমিককে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল যাদের পরিবারের শোক আজও কাটেনি। বিচারিক এই ধীরগতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মনে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি এখন সবার।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন