রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আজহারীর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে প্রতারণা, ২ আসামি রিমান্ডে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৫, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

আজহারীর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে প্রতারণা, ২ আসামি রিমান্ডে

আদালতে নেওয়া হচ্ছে আসামিদের

ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ নকল করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ এই আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক সামিম হোসেন গ্রেপ্তার ১০ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি আটজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন—শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন বিজয়, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম এবং মো. ইমরান। তারা চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি ভাড়া বাসা থেকে এই প্রতারণা চক্র পরিচালনা করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে এই মামলাটি করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গত ২৫ এপ্রিল তাদের প্রথমবার আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চক্রটি পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ড. আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবিকল নকল ভিডিও তৈরি করত। এসব ভিডিওতে আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো।

সাধারণ মানুষ আজহারীর বক্তব্যে বিশ্বাস করে এসব পণ্য অর্ডার দিতেন। চক্রটি ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ ২৪টির বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আসছিল। পরে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।