অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম
মিজানুর রহমান আজহারী ২০২৫ সালকে সামনে রেখে এক নতুন বয়ানে মুসলিম উম্মাহকে হিংসা-বিদ্বেষ ও কাঁদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মৃত ব্যক্তির কবরে যে সাতটি আমলের সওয়াব পৌঁছায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো মসজিদ নির্মাণ।
তিনি কাজী নজরুল ইসলামের মসজিদের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন এবং মসজিদ নিয়ে দলাদলি, যেমন হানাফী বা আহলে হাদিস মসজিদ নামে বিভেদ তৈরির তীব্র সমালোচনা করেন। আজহারী বলেন, হাত তোলা বা জোরে আমিন বলার মতো ছোটখাটো সুন্নাহ বিষয় নিয়ে মারামারি করা উচিত নয়, কারণ এগুলো নামাজের ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি রাসূল (সাঃ)-এর সময়ের মসজিদের চিত্র তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন মসজিদ ছিল বালুর মেঝেসহ কাঁচা, কিন্তু মুসল্লিরা ছিলেন পাকা; আর বর্তমানে মসজিদ পাকা হলেও মুসল্লি কাঁচা, যার প্রমাণ ফজরের নামাজে মুসল্লিদের স্বল্পতা। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যখন ফজরের নামাজের জামাত জুমার নামাজের মতো হবে, তখনই ইসলাম কায়েম হবে।
আজহারী কেয়ামতের আলামত হিসেবে লম্বা বক্তব্য ও সংক্ষিপ্ত সালাতের সমালোচনা করেন এবং নিজের ওয়াজ মাহফিল কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন। তিনি মসজিদের প্রকৃত আবাদকারী হিসেবে কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী, সালাত কায়েমকারী, যাকাত প্রদানকারী এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। তিনি মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি জামাতে সালাত আদায়, মসজিদের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক রাখা এবং মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দেন। সবশেষে, তিনি মসজিদের বিস্তারিত আদব বর্ণনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে ওযুর সাথে, সর্বোত্তম পোশাকে, ডান পা দিয়ে দোয়া পড়ে প্রবেশ করা, তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ পড়া, কবরস্থানের ওপর মসজিদ নির্মাণ না করা, মসজিদকে সুগন্ধযুক্ত রাখা এবং বিশেষত কেবলার দিকের দেয়ালকে সাদামাঠা রাখা। তিনি কাবা ঘর বা মিনারের ছবি সম্বলিত জায়নামাজ ব্যবহার করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন, কারণ এটি মুসল্লির মনোযোগ নষ্ট করে এবং এতে কাবা ঘরের প্রতি অসম্মান প্রদর্শিত হতে পারে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন