মে ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
কোনো প্রধান বিচারপতির কেয়ারটেকার গভমেন্ট বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া কিংবা অন্যান্য বিচারপতিদের অবসরের পর বিভিন্ন লাভজনক পদে নিয়োগের সুযোগ পাওয়ার কারণে তারা কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন।
অবসরের পর অনেক বিচারপতিই নিজের লাভ-ক্ষতির হিসাব কষা শুরু করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রস্তাবিত নতুন আইনের কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব বা সীমাবদ্ধ করা হবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সব ইনস্ট্রুমেন্ট উল্লেখ করার আইনি বাধ্যবাধকতা সব আইনে থাকে না এবং এটি আইনের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা দুর্বলতা তৈরি করবে না। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বিচারিক কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে বিভিন্ন বাছাই কমিটিতে থাকতে অপরাগতা প্রকাশ করছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটির জন্য দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠিয়ে রাখার পরও এখনো কমিটি গঠন করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন।
গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্বেগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাহিনী প্রধানের দেওয়া রিপোর্ট যদি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হয়, তবে কমিশন তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে স্বাধীনভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। কোনো বাহিনীর প্রধান যদি তার অধীনস্থ কাউকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন, তবে তাকেও কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি ও আইনি পরিণতি ডেকে আনবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বিষয়ক যে অধ্যাদেশটি আনা হয়েছিল, তার খসড়া নিয়ে আইনমন্ত্রী মোটেই संतुষ্ট নন কারণ সেখানে অপরাধীরাই বেশি সুযোগ পেতো।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত নতুন আইন খুব শিগগিরই জনগণের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরণের political নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে তড়িঘড়ি করে ১০ থেকে ২০ জন সাক্ষী নিয়ে এক রাতেই সাজা দেওয়ার নজির তৈরি করা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন