জুন ২১, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন একজন সেনা কর্মকর্তা।আদালতে হাজির হয়ে ওই সেনা কর্মকর্তার দেওয়া জবানবন্দির কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।চিফ প্রসিকিউটর জানান, জবানবন্দিতে অন্যতম প্রধান একটি বিষয় ছিল জিয়াউল আহসানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত তথাকথিত জাফলং অপারেশন।
র্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে সঙ্গে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলং সীমান্তে গিয়েছিলেন সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। জাফলংয়ে পৌঁছানোর পর ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা কিছু ব্যক্তি আরও দুজন আসামিকে এনে জিয়াউলের বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে বিনিময় সম্পন্ন করেন।
ভারত থেকে আনা ওই দুই ব্যক্তিকে প্রকাশ্য রাস্তার মাথায় সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যা করেন জিয়াউল আহসান। জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো ভারতের ওই লোকদের নিয়ে আসতেন এবং তারা কোনো নির্দিষ্ট দল বা বিশেষ বাহিনীর সদস্য হতে পারেন বলে প্রসিকিউটর ধারণা ব্যক্ত করেন। তবে ভারত থেকে হস্তান্তর করা ওই দুই ব্যক্তি আসলে ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।
এর বাইরে তৎকালীন বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যকে ধরে এনে প্রধানত দুটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হত্যা করতেন জিয়াউল আহসান। কাউকে সরাসরি প্রাণঘাতী ইনজেকশন পুশ করে আবার কাউকে মাথায় সরাসরি গুলি ঠেকিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে সাক্ষী আদালতে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন