রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সন্তানের মানসিক বিকাশে বড় বাধা অতিরিক্ত শাসন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৭, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

সন্তানের মানসিক বিকাশে বড় বাধা অতিরিক্ত শাসন

সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে শাসন প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত শাসন, বকাঝকা বা কঠোর আচরণ মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় অভিভাবকেরা শৃঙ্খলার জন্য কঠোরতা অবলম্বন করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সন্তানের আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক আচরণের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।অতিরিক্ত শাসনে সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত শাসন সন্তানের মানসিক বিকাশে বড় বাধা। সন্তান কী চাইছে আর বাবা-মা কী চাইছেন, এই যোগাযোগে ঘাটতি থাকলে দূরত্ব তৈরি হয়। এই দূরত্ব কমাতে বলপ্রয়োগ করা হলে সন্তান আরও জেদি হয়ে উঠতে পারে।

কঠোর শাসন বা সবসময় মারপিঠের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে ভয়, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ বেশি। প্রতিক্রিয়ার ভয়ে অনেক শিশু নিজের কথা প্রকাশ করতে চায় না। 

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাসরিন নাহার বলেন, অনেক সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করলেও নিজের সমস্যা বা মানসিক কষ্টের কথা তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। বকাঝকার ভয়ে তারা মুখ খোলে না, এতে পারিবারিক যোগাযোগ কমে যায়।গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কঠোর আচরণের শিকার হয়, তারা পরবর্তীতে একই ধরনের আচরণ অন্যদের প্রতি প্রদর্শন করতে পারে। ড. আজহারুল ইসলামের মতে, অতিরিক্ত শাসনের ফলে সন্তানের সামাজিক দক্ষতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বড় হয়ে তারা সম্পর্ক গড়তে সমস্যায় পড়ে। আন্তঃপ্রজন্ম দুষ্টচক্র তৈরি হয়।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ কোটি শিশু নিয়মিত মানসিক আগ্রাসন বা শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হয়। অর্থাৎ বিশ্বে প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৬ জনই শাস্তির মুখে। ইউনিসেফের মতে, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব ও খোলামেলা যোগাযোগ শিশুর আত্মমর্যাদাবোধ বাড়ায়।ডা. নাসরিন নাহার বলেন, আচরণের কারণ না বুঝে সরাসরি শাস্তির পথে যাওয়া ভুল। প্রতিটি শিশুর দক্ষতা ও বিকাশের গতি আলাদা, তাই তুলনার বদলে তার নিজস্ব অগ্রগতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। ড. আজহারুল ইসলাম মনে করেন, সন্তানকে জোর করে ঠিক করার যন্ত্র হিসেবে না দেখে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে আলাপ-আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।