সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ফরিদপুরের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা বালিয়াচর মূলত কৃষিনির্ভর এক জনপদ। নদীর বয়ে আনা পলি সমৃদ্ধ উর্বর দোআঁশ মাটির কারণে এখানকার কৃষকরা আউশ ধান, গম, পেঁয়াজ, পাট ও বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় নদী ও কৃষির প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
বর্ষা মৌসুমে এই চরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম কেবলই নৌকা। বর্তমানে মাঠে মাঠে আউশ ধান ও পাট কাটার ভরা মৌসুম চলছে। ধান মাড়াইয়ের কাজে একসময় গরুর ব্যবহার থাকলেও এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে দ্রুত কাজ শেষ করা হচ্ছে। তবে শস্য পরিষ্কার করতে কুলা দিয়ে বাতাসে ওড়ানোর প্রাচীন প্রথা এখনো টিকে আছে। বীজ বাছাই, চারা রোপণ থেকে শুরু করে পাটের আঁশ ছাড়ানোর মতো কঠিন পরিশ্রমেও পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন চরের নারীরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এখানকার ঘরবাড়িগুলো কিছুটা উঁচুতে নির্মাণ করা হয় এবং প্রয়োজনে সহজেই খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সুপেয় পানির জন্য নলকূপের ওপর ভরসা করলেও মাটির গঠনের কারণে পানির সঙ্গে আসা সূক্ষ্ম বালি আটকাতে নলকূপের মুখে সুতি কাপড়ের ছাঁকনি ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।
প্রতিটি বাড়িতে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি আঙিনায় নানা দেশীয় সবজির আবাদ হয়। সারাদিনের শ্রম শেষে টাটকা সবজি ও নদী থেকে ধরা তাজা মাছ রান্না করে পরিবারের আহার মেটানো হয়। নদী ও প্রকৃতির রুক্ষতার সঙ্গে সংগ্রাম করেই চরের মানুষের এই স্বাবলম্বী জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত বয়ে চলেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন