অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ১২:২৩ পিএম
হেমন্তের হালকা ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা বাজতে শুরু করেছে। বাতাসে আর্দ্রতা কমার এই সময়ে আমাদের ত্বকেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে। তাই, (প্রকৃত) শীত শুরু হওয়ার আগেই যদি ত্বকের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তবে পুরো মৌসুমেই ত্বক থাকবে মসৃণ, কোমল ও প্রাণবন্ত।
ত্বকের যত্ন শুরু হয় পরিচ্ছন্নতা দিয়ে। এই সময়ে সাবান ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে ফেলে। এর পরিবর্তে, সকালে মুখ ধোয়ার জন্য একটি ভালো মানের ময়েশ্চারাইজিং ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। গোসলের জন্য অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার পুরোপুরি পরিহার করতে হবে, কারণ গরম পানি ত্বককে আরও বেশি শুষ্ক করে তোলে। চেষ্টা করুন কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে এবং গোসল বা মুখ ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি মুছে নিন।
শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য প্রয়োজন ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার। গোসলের পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, অর্থাৎ দিনে অন্তত দুইবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক, তারা অয়েল-বেইজড ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
অনেকেই ভাবেন, শীতকালে বুঝি সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শীতেও ত্বকের সমান ক্ষতি করে। তাই প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
ত্বকের সুরক্ষা শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও প্রয়োজন। শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও শরীর ও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে, অন্তত ৮ গ্লাস, পানি পান করা জরুরি। এর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখুন মৌসুমি শাকসবজি এবং ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন—কমলা, পেয়ারা, গাজর এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম। এগুলো ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখে।
সবশেষে, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকাও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম ত্বককে স্বাভাবিকভাবে সেরে উঠতে সাহায্য করে। এই কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই শীতের শুষ্ক আবহাওয়াতেও আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

-20251015031939.webp)

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন