রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ছাত্র উপদেষ্টাদের কথায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: ডা. সায়ন্থ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১১:০০ এএম

ছাত্র উপদেষ্টাদের কথায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: ডা. সায়ন্থ

চিকিৎসক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের বক্তব্যের বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ছাত্র উপদেষ্টারা কিছু বিষয় না জেনেই বলেন, আবার কিছু বিষয় অতিরিক্ত বুঝে বলেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সায়ন্থ উদাহরণ টেনে বলেন, ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কিছুদিন আগেই দাবি করেছিলেন যে, ভারতের সঙ্গে ১০টি চুক্তি বাতিল হয়েছে। কিন্তু পরে খোদ পররাষ্ট্র উপদেষ্টাই সেই তথ্যকে ভুল বলে সংশোধন করে দেন। ডা. সায়ন্থ বলেন, ‘পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, একটি চুক্তি বাতিল হয়েছে, আর বাকি কিছু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, অথচ এইরকম স্টেটমেন্ট তিনি (আসিফ মাহমুদ) মিডিয়ার সামনে বা ফেসবুকে দিয়ে ফেলেন। ফলে প্রকৃত তথ্য থেকে ডেভিয়েশন (বিচ্যুতি) হয়ে যায়।’

ডা. সায়ন্থ ছাত্র উপদেষ্টাদের কারো কারো সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে দুইজন উপদেষ্টার সম্পর্ক নিবিড় কেন হবে? একসঙ্গে মুভমেন্ট ছিল সেটা একটা এবং তারা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ওখানে (সরকারে) আছে। তাদের কার্যক্রমও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিভাবে যেন মিলে যায়।’

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সম্প্রতি দুটি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘দুটো টিভি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এই টিভি লাইসেন্স জামায়াত পায়নি, বিএনপির কারো নামে লাইসেন্স হয়নি, নির্দলীয় কোনো ব্যবসায়ীর নামে হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে এটা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকালে যেভাবে দেওয়া হতো সেভাবেই দেওয়া হয়েছে।’

ডা. সায়ন্থ আরও বলেন, এই লাইসেন্স প্রদানকে এখন ‘জাস্টিফাই’ (বৈধতা) করার চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর হাতে থাকা সংবাদমাধ্যমগুলোর বিপরীতে একটি ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ বা পাল্টা বয়ান তৈরি করতে এই টিভি লাইসেন্স দেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে সেটা কাকে দিচ্ছেন? একটা পক্ষের দিকে টান আছে বলে দিচ্ছেন। এইখানে হচ্ছে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট (স্বার্থের সংঘাত)।