নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৬:৩৯ পিএম
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠেয় গণভোটে জনগণের রায় 'হ্যাঁ' সূচক হলে দেশের সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বৃহস্পতিবারের ভাষণে ঘোষণা করেছেন যে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে।
একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করবেন।ড. ইউনূস জানান, এই পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।
এই সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।গণভোটে জনগণ একটিমাত্র প্রশ্নের ভিত্তিতে 'হাঁ' অথবা 'না' ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাবেন। এই প্রশ্নের অধীনে নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের প্রতি ভোটারদের সম্মতি চাওয়া হচ্ছে: প্রথমত, নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
দ্বিতীয়ত, আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। তৃতীয়ত, সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩০টি ঐকমত্যের প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। এবং চতুর্থত, জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই 'হ্যাঁ' রায় কার্যত জুলাই বিপ্লবের সাংবিধানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এই গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন