ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৪:২২ পিএম
মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকারের (এ কে খন্দকার) নামাজে জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে আয়োজিত এই জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জানাজার পূর্বে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে একটি বিশেষ ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয় এবং চৌকস সামরিক দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
দেশের এই কৃতী সন্তানের বিদায়ে জানাজাস্থলে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব এবং পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একে একে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এ সময় বিমানবাহিনীর একটি সুসজ্জিত ফ্লাই পাস্টের মাধ্যমে আকাশ থেকে মরহুম এ কে খন্দকারের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
জানাজার আগে স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এ কে খন্দকারের পুত্র জাফরুল করিম খন্দকার। বার্ধক্যজনিত কারণে গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর রণকৌশল, দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা মুক্তিকামী মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল। মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি যুদ্ধের কঠিন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে বাহিনীটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এ কে খন্দকারের প্রয়াণে জাতি এক কিংবদন্তি সমরনায়ককে হারাল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন